প্রশ্ন: দুই ঈদের নামাযের প্রত্যেকটিতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে ১২ টি করে তাকবীর দেয়া সুন্নত কেন? এর উপকারিতা কী? পাঁচ ওয়াক্তের ফরয নামাযে না করে ঈদের নামাযে এ তাকবীর বলার অর্থ কী?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ইবাদতের
বিধানগুলোর
ক্ষেত্রে
মূলনীতি হল– আল্লাহ্
ও তাঁর
রাসূলের দেয়া
বিধানের
গণ্ডিতে থেমে
যাওয়া
(তাওক্বীফ)।
আল্লাহ্ ও
তাঁর রাসূল
আমাদেরকে
যেভাবে
নির্দেশ দিয়েছেন
সেভাবে ইবাদত
করা। হোক না
আমরা এর হেকমত
বা গূঢ় রহস্য
জানতে পারি
কিংবা না
জানি। বিশেষতঃ
নামায-রোযা-হজ্জ
এর পদ্ধতির
ক্ষেত্রে। এতে
যুক্তির কোন
স্থান নেই। এ
ধরণের একটি
বিষয় হচ্ছে– নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম আমাদেরকে
বিধান
দিয়েছেন যে,
দুই ঈদের
নামাযের প্রথম
রাকাতে
তাকবীরে
তাহরিমার পরে
সূরা ফাতিহার
আগে ৬ তাকবীর
কিংবা ৭
তাকবীর বলা
এবং দ্বিতীয়
রাকাতে সূরা
ফাতিহা পড়ার
আগে ৫ তাকবীর বলা;
পাঁচ ওয়াক্ত
নামাযের
ক্ষেত্রে এ
বিধান দেননি।
তাই আমাদের
কর্তব্য
হচ্ছে, আমরা
আল্লাহ্ ও
তাঁর রাসূলের
দেয়া বিধানের
প্রতি ঈমান
আনব, সেটার
প্রতি
আত্মসমর্পণ
করব। শুনব এবং
মানব। কেননা এ
ক্ষেত্রে
মূলনীতি
হচ্ছে- আনুগত্য
করা; কারণ
ব্যাখ্যা নয়।
ইবাদত,
ইবাদতের প্রকারভেদ
ও পদ্ধতি
ইত্যাদি
যেগুলো
আল্লাহ্র
সংরক্ষিত
বিষয় সেগুলোতে
কোন বান্দার
অনধিকার
চর্চা করার
সুযোগ নেই। আল্লাহ্
কারো
জিজ্ঞাসাবাদের
পাত্র নন যে,
তাকে
জিজ্ঞাসা করা
হবে:
‘কেন
এমন বিধান
দেয়া হল’,
‘কেন এমনটা
দেয়া হল না’, কিংবা
‘এ বিধান
দেয়ার
উপকারিতা কী’? বরং
বান্দার
কর্তব্য
হচ্ছে– আল্লাহ্ ও
তাঁর রাসূল যে
বিধান জারী
করেছেন সেটা
জানা ও আমল
করা। এরপর যদি
কোন হেকমত
জানা যায়,
আলহামদুলিল্লাহ্।
না জানলেও
বান্দা
আল্লাহ্র
বিধানের
প্রতি
আত্মসমর্পণ
করবে, আনুগত্য
করবে এবং দৃঢ়
বিশ্বাস
রাখবে যে,
আল্লাহ্
তাআলা কোন গূঢ়
রহস্যের
কারণে ও
বান্দাদের
কল্যাণার্থে
বিধান
দিয়েছেন।
কেননা
আল্লাহ্ তাঁর
কথা, কাজ,
বিধান প্রদান
ও তাকদীর
নির্ধারণে
প্রজ্ঞাবান ও
জ্ঞানী। তিনি
বলেন:
“নিশ্চয়
আপনার রব্ব
হাকীম
(প্রজ্ঞাবান)
ও আলীম (জ্ঞানী)।[সূরা
আনআম, আয়াত: ৮৩]
আমরা যা
উল্লেখ করেছি তার
প্রমাণ রয়েছে
আল্লাহ্র এ
বাণীতে:
“তোমাদের
জন্য আল্লাহ্র
রাসূলের
মধ্যে রয়েছে
অনুকরণীয়
উত্তম আদর্শ।”[সূরা আহযাব,
আয়াত: ২১] এবং
রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লামের এ
বাণীতে:
“তোমরা
আমাকে যেভাবে
নামায পড়তে
দেখ সেভাবে নামায
পড়।”[সহিহ
বুখারী] এবং
বিদায়
হজ্জকালে রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লামের এ বাণীতে:
“তোমরা আমার
কাছ থেকে
তোমাদের
হজ্জের
অনুষ্ঠানাদি
শিখে নাও।”[সহিহ মুসলিম
(৩৭৮)]
আল্লাহ্ই
উত্তম
তাওফিকদাতা।
