প্রশ্ন: জনৈক মুসাফির ব্যক্তি রমযানের রোযা ভেঙ্গে ফেলার নিয়ত করেছিলেন। কিন্তু রোযা ভাঙ্গার জন্য কোন খাবার-দাবার না পেয়ে সে নিয়ত থেকে ফিরে আসেন এবং মাগরিব পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করার নিয়ত করেন। এখন তার এ রোযার হুকুম কি?

উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ।

কোন
রোযাদার যদি
রোযা ভাঙ্গার
নিয়ত করে তাহলে
তার রোযা
বাতিল হয়ে
যায়। রোযা
ভাঙ্গার নিয়ত যদি
হয় দ্বিধাহীন
ও সুদৃঢ়; এমনকি
পরবর্তীতে
কোন খাবার-দাবার
না পেয়ে নিয়ত
পরিবর্তন করেন
তবুও তার রোযা
ভেঙ্গে যাবে
এবং তাকে এ
দিনের পরিবর্তে
অন্য একটি দিন
রোযাটি কাযা
করতে হবে। এটি
মালেকি ও
হাম্বলি
মাযহাবের অভিমত।

তবে
হানাফি ও
শাফেয়ি
মাযহাবের
অভিমত এর বিপরীত।[দেখুন:
বাদায়েউস
সানায়ে ২/৯২,
হাশিয়াতুদ
দুসুকি ১/৫২৮,
আল-মাজমু ৬/৩১৩,
কাশশাফুল
ক্বিনা ২/৩১৬]

নিম্নের
আলোচনাতে
তুলে ধরা হবে
যে, রোযা বাতিল
হওয়ার
অভিমতটি
অগ্রগণ্য; এ
মতের
ভিত্তিতে বলতে
হয় যদি তিনি
রোযা ভেঙ্গে
ফেলার নিয়ত
করেন, এতে কোন
দ্বিধা ও সংশয়
না থাকে; কিন্তু
পরবর্তীতে
রোযা ভাঙ্গার
জন্য কিছু না
পেয়ে নিয়ত
পরিবর্তন
করেন তদুপরি
তার রোযা ভেঙ্গে
যাবে এবং এ
রোযাটির কাযা
পালন করা তার
উপর অবধারিত
হবে।

পক্ষান্তরে,
সে ব্যক্তি
রোযা
ভাঙ্গবেন;
নাকি
ভাঙ্গবেন না এ
নিয়ে
দ্বিধাদ্বন্দ্বের
মধ্যে থাকেন
অথবা রোযা
ভাঙ্গার বিষয়টিকে
কোন কিছুর
সাথে
সম্পৃক্ত
করেন; যেমন-
আমি যদি খাবার
বা পানীয় পাই
রোযা ভাঙ্গব;
অতঃপর রোযা
ভাঙ্গার মত
কোন কিছু না
পান তাহলে তার
রোযা সহিহ
হবে।

একবার
শাইখ
উছাইমীনকে
প্রশ্ন করা
হয়েছিল: জনৈক
মুসাফির
ব্যক্তি
রমজানের রোযা
ভেঙ্গে ফেলার
নিয়ত করেছে।
কিন্তু রোযা
ভাঙ্গার জন্য
কোন কিছু না
পেয়ে নিয়ত
পরিবর্তন
করেছে এবং
মাগরিব
পর্যন্ত রোযা পূর্ণ
করেছে। এ
ব্যক্তির এ
রোযার হুকুম
কি?

উত্তরে
শাইখ বলেন:
তার রোযা সহিহ
নয়। তার উপর কাযা
আদায় করা ফরজ।
কারণ সে
ব্যক্তি যখন
রোযা ভাঙ্গার
নিয়ত করেছেন
তখনই তার রোযা
ভেঙ্গে গেছে।
পক্ষান্তরে
সে ব্যক্তি
যদি বলত- পানি
পেলে রোজা
ভাঙ্গব; নচেৎ
আমি রোযা
পূর্ণ করব;
এরপর পানি না
পায়। তবে এ
ব্যক্তির
রোযা সহিহ
হবে। কারণ ইনি
নিয়ত ত্যাগ
করেননি। বরং
রোযা ভাঙ্গাটাকে
বিশেষ কিছুর
সাথে
সম্পৃক্ত
করেছেন; তবে
যেহেতু সে
জিনিশটি
পাওয়া যায়নি;
সুতরাং তার প্রথম
নিয়ত ঠিক
থাকবে।

প্রশ্নকারী
বলেন: আমরা সে
ব্যক্তিকে কি
জবাব দিতে
পারি যিনি
বলেন, কোন
আলেম বলেননি
যে, নিয়ত
রোযাভঙ্গকারী
বিষয়? তখন
উত্তরে শাইখ
বলেন: আমরা এ
ব্যক্তিকে
বলব, আলেমদের
বই-পুস্তক
(তথা ফিকাহর
গ্রন্থ ও
সংক্ষিপ্তসারগুলো)
সম্পর্কে তার
কোন ধারণা নেই।
‘যাদুল
মুস্তানকি’
গ্রন্থে
এসেছে- যে
ব্যক্তি রোযা
ভাঙ্গার নিয়ত
করেছে তার
রোযা ভেঙ্গে
গেছে।

আমি
আপনাদেরকে অপরিচিত
ও অযোগ্য
লোকদের কাছ
থেকে ইলম
গ্রহণের
ব্যাপারে
সাবধান করছি।
এ ধরণের কোন
লোক যদি বলে, এ
উক্তি আমার
জানা নেই অথবা
কোন আলেম এমন
অভিমত দেননি;
এ কথা থেকেও
আমি
আপনাদেরকে
সাবধান করছি। এ
ধরণের কথায়
তারা
সত্যবাদী হতে
পারে। যেহেতু
তারা আলেমদের
গ্রন্থগুলো
চিনে না;
কিতাবপুস্তক
তারা পড়েনি;
সে সম্পর্কে
তারা কিচ্ছু
জানে না।

যদি
আমরা ধরে নিই
এ ব্যাপারে
আলেমগণের
কিতাবে আমরা
কিছুই পাইনি;
কিন্তু নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম কি
বলেননি: “আমল
হয় নিয়ত
দ্বারা”।
অবশ্যই নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এ কথা
বলেছেন।

যদি
নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এ কথা
বলে থাকেন, আর
এ ব্যক্তি
রোযা ভাঙ্গার
নিয়ত করে;
তাহলে কি তার
রোযা ভাঙ্গবে?
হ্যাঁ; ভাঙ্গবে।[লিকাউল
বাব আল-মাফতুহ
থেকে সংকলিত,
২০/২৯] 

আল্লাহই
ভাল জানেন।