প্রশ্ন: যারা হাজী নন আরাফার দিনে তাদের দোয়াও কি কবুল হওয়ার সম্ভাবনাময়?

উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ।

আয়েশা
(রাঃ) থেকে
বর্ণিত তিনি
বলেন: নিশ্চয়
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম
বলেছেন: “আরাফার
দিনের চেয়ে
উত্তম এমন কোন
দিন নেই যেই
দিন আল্লাহ
সবচেয়ে বেশি
বান্দাকে
জাহান্নামের
আগুন থেকে
মুক্তি দেন;
নিশ্চয় তিনি
নিকটবর্তী হন;
অতঃপর আরাফাবাসীকে
নিয়ে
ফেরেশতাদের
কাছে গৌরব করে
বলেন: এরা কি
চায়?”[সহিহ
মুসলিম (১৩৪৮)]

আব্দুল্লাহ
বিন আমর বিন
আস (রাঃ) থেকে
বর্ণিত যে,
নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন:
“সর্বোত্তম
দোয়া হচ্ছে-
আরাফার দিনের
দোয়া। আমি এবং
আমার
পূর্ববর্তী
নবীগণ সর্বোত্তম
যে দোয়াটি পাঠ
করেছি সেটা
হচ্ছে-
 لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، له الملك ، وله الحمد ، وهو
على كل شيء قدير
(অর্থ-
এক আল্লাহ
ছাড়া সত্য কোন
উপাস্য নেই;
তাঁর কোন শরীক
নেই। রাজত্ব
তাঁর জন্য,
প্রশংসা তাঁর জন্য,
তিনি
সর্ববিষয়ে
ক্ষমতাবান)।[সুনানে
তিরমিযি
(৩৫৮৫), আলবানী
‘সহিহুত
তারগীব’
গ্রন্থে
(১৫৩৬)
হাদিসটিকে
সহিহ বলেছেন]

মুরসাল সনদে
তালহা বিন
উবাইদ বিন
কুরাইয থেকে
বর্ণিত তিনি
বলেন: “সর্বোত্তম
দোয়া হচ্ছে-
আরাফা দিনের
দোয়া”।[মুয়াত্তা
মালেক (৫০০),
আলবানী তাঁর ‘সহিহুল
জামে’ গ্রন্থে
হাদিসটিকে
সহিহ বলেছেন]

আরাফার দিনে
দোয়া করার
ফযিলত কি শুধু
আরাফাবাসীর
জন্য খাস;
নাকি অন্যসব
স্থানের
মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত
করবে— এ
ব্যাপারে
আলেমদের
মতভেদ আছে।
অগ্রগণ্য মতানুযায়ী,
এ ফযিলত আম বা
সাধারণ এবং
ফযিলতটি
হচ্ছে কালকেন্দ্রিক।
তবে,
নিঃসন্দেহে
যে ব্যক্তি
আরাফার
ময়দানে হাজির রয়েছেন
তিনি স্থানের
ফযিলত ও কালের
ফযিলত উভয়টি পাচ্ছেন।

আল-বাযি (রহঃ)
বলেন:

তাঁর কথা:
“সর্বোত্তম
দোয়া হচ্ছে-
আরাফার দিনের
দোয়া”। অর্থাৎ
সবচেয়ে
বরকতময়, অধিক
সওয়াব ও কবুল
হওয়ার অধিক
উপযুক্ত
যিকির। এর
দ্বারা শুধু
হজ্জপালনকারী
উদ্দেশ্য
হওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে; কেননা
আরাফার দিনে
দোয়া করা
হজ্জপালনকারীর
ব্যাপারে
শুদ্ধ হয় এবং বিশেষভাবে
হাজীর
ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য হয়। সাধারণভাবে
এই দিনকে
আরাফার দিন
বলা হলেও সেটা
হাজীদের
আমলের কারণেই।
আল্লাহই ভাল
জানেন।[সমাপ্ত,
আল-মুনতাকা
শারহুল মুয়াত্তা
(১/৩৫৮)]

কোন কোন সলফে
সালেহীন থেকে
সাব্যস্ত
হয়েছে যে,
তাঁরা ‘تعريف’ (তা’রীফ)
করাকে জায়েয
মনে করতেন।
تعريف
(তা’রীফ)
হচ্ছে- আরাফার
দিনে দোয়া ও
যিকির করার
জন্য মসজিদে
একত্রিত হওয়া।
যারা এটি
করতেন তাদের
মধ্যে রয়েছেন-
ইবনে আব্বাস
(রাঃ)। ইমাম
আহমাদ তা’রীফ
করাকে জায়েয
বলেছেন। যদিও
তিনি নিজে
করতেন না।

ইবনে কুদামা
(রহঃ) বলেন:

কাযী বলেন:
“আরাফার দিন
সন্ধ্যায়
শহরবন্দরে (অর্থাৎ
আরাফা ছাড়া
অন্যত্র)

تعريف

(তা’রীফ)
পালন
করতে কোন বাধা
নেই। আল-আসরাম
বলেন: আমি আবু
আব্দুল্লাহকে
অর্থাৎ ইমাম
আহমাদকে
আরাফার দিন
বিভিন্ন শহরের
মসজিদে
একত্রিত হয়ে
تعريف
(তা’রীফ)
পালন করা সম্পর্কে
জিজ্ঞেস
করেছি। তিনি
বলেন: “আমি আশা
করছি এতে কোন
অসুবিধা নেই; একাধিক
সলফে সালেহীন
এটি করতেন।”
আল-আসরাম
হাসান থেকে
বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেন:
সর্বপ্রথম
বসরা শরে যিনি

تعريف
পালন করেছেন:
ইবনে আব্বাস
(রাঃ)। ইমাম
আহমাদ বলেন:
“সর্বপ্রথম
যিনি এটি করেছেন
তিনি হচ্ছেন-
ইবনে আব্বাস
(রাঃ) ও আমর বিন
হুরাইছ (রাঃ)”। 

তিনি আরও
বলেন: হাসান,
বকর, সাবেত ও
মুহাম্মদ বিন
ওয়াসে’ তাঁরা
আরাফার দিন
মসজিদে হাজির
হতেন। ইমাম আহমাদ
বলেন: এতে কোন
অসুবিধা নেই।
এটা তো দোয়া ও
যিকির ছাড়া আর
কিছু নয়।
তাঁকে বলা হল:
আপনি কি এটা
করেন? তিনি
বলেন: না; আমি
করি না।
ইয়াইয়া বিন
মায়ী’ন থেকে
বর্ণিত আছে
যে, আরাফার
দিন সন্ধ্যায়
সবার সাথে
তিনিও হাজির
থাকতেন।[সমাপ্ত]

[আল-মুগনী
(২১২৯)] 

এ আলোচনা
প্রমাণ করে
যে, তারা মনে
করতেন যে, আরাফার
দিনের ফযিলত
শুধু হাজীদের
জন্য খাস নয়।
যদিও আরাফার
দিন দোয়া ও
যিকির পালন
করার জন্য
মসজিদে
একত্রিত
হওয়ার ব্যাপারে
নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম থেকে
কোন কিছু
বর্ণিত হয়নি।
এ কারণে ইমাম
আহমাদ এটি
করতেন না।
তবে, তিনি এ
ব্যাপারে রুখসত
বা ছাড় দিতেন;
নিষেধ করতেন
না। যেহেতু ইবনে
আব্বাস, আমর
বিন হুরাইছ
প্রমুখ
সাহাবী এটি
করতেন।

আল্লাহই ভাল
জানেন।