প্রশ্ন: আমি জেনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ( ليس من البر الصوم في السفر) অর্থ- “সফর অবস্থায় রোজা রাখা নেকীর কাজ নয়”। এর মানে কি মুসাফির ব্যক্তি রোজা রাখলে সে রোজা সহিহ হবে না?
উত্তর:
আলহামদু
লিল্লাহ।
এক:
ইতোপূর্বে
20165
নং
প্রশ্নোত্তরে
উল্লেখ করা
হয়েছে যে, সফর
অবস্থায় রোজা
রাখার তিনটি
অবস্থা:
১.
যদি রোজা
রাখাটা
কষ্টকর না হয়
তাহলে রোজা রাখা
উত্তম।
২.
যদি রোজা রাখা
কষ্টকর হয়
তাহলে রোজা
না-রাখা
উত্তম।
৩.
যদি রোজা
রাখলে
শারীরিকভাবে ক্ষতি হয় অথবা
মৃত্যুর আশংকা হয় তাহলে রোজা
রাখা
হারাম; রোজা
না-রাখা ফরজ।
এ সংক্রান্ত
হাদিসের দলিলগুলো
সেখানে
উল্লেখ করা
হয়েছে।
দুই:
প্রশ্নকারী
যে হাদিসটির
প্রতি ইশারা
করেছেন সে
হাদিসটি
তৃতীয়
অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট। যদি
হাদিসটির
প্রাসঙ্গিকতা
ও বর্ণনা করার প্রেক্ষাপট আমরা জানতে
পারি তাহলে এ
বিষয়টি পরিস্কার
হবে। ইমাম
বুখারি (১৯৪৬)
ও মুসলিম (১১১৫)
জাবের বিন
আব্দুল্লাহ
(রাঃ) থেকে
বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেন:
একবার নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম সফরে
ছিলেন। তখন
তিনি এক জটলার
মধ্যে এক
ব্যক্তিকে
ছায়া দিতে
দেখলেন। তখন
তিনি বললেন:
এখানে কি?
সাহাবীরা
বললেন: ইনি
রোজাদার। তখন
তিনি বললেন:
সফরের মধ্যে
রোজা রাখা
সওয়াবের কোন
কাজ নয়।
সিন্দি
বলেন:
তাঁর কথা: (ليس من البر) অর্থাৎ
আনুগত্যের ও
ইবাদতের কাজ
নয়। সমাপ্ত
নববী বলেন:
এর অর্থ
হচ্ছে- যদি
তোমাদের জন্য
কষ্টকর হয়ে যায়
এবং তোমরা
ক্ষতির আশংকা
কর। হাদিসটির
সিয়াক বা প্রাসঙ্গিকতা
এ ধরনের
ব্যাখ্যার
দাবী করে…। সুতরাং
রোজা
রেখে যে
ব্যক্তি
ক্ষতির
সম্মুখীন হবে
হাদিসটি
তাদের
প্রসঙ্গে বর্ণিত
হয়েছে।
সমাপ্ত
ইমাম
বুখারী
হাদিসটির এ
অর্থ বুঝেছেন। তাইতো
তিনি এ
হাদিসটির
শিরোনাম
দিয়েছেন, “যাকে
ছায়া দিতে
হয়েছে এবং তিনি
তীব্র গরমের শিকার হয়েছেন
তার প্রসঙ্গে নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লামের বাণী: ‘সফর
অবস্থায় রোজা
রাখা নেকীর
কাজ নয়’।” সমাপ্ত
হাফেয ইবনে
হাজার বলেন:
এ শিরোনাম
দিয়ে তিনি এ
দিকে ইশারা
করেছেন যে, নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম কর্তৃক
“সফর
অবস্থায়
রোজা রাখা
সওয়াবের
কাজ নয়”
বাণী উচ্চারণ
করার কারণ
হচ্ছে- যে
কষ্টের কথা
উল্লেখ করা
হয়েছে সেটি।
ইবনুল
কাইয়্যেম
(রহঃ) ‘তাহযিবুস
সুনান’
গ্রন্থে বলেন:
‘সফরে রোজা
রাখা সওয়াবের
কোন কাজ নয়’
এটি ব্যক্তি
বিশেষের
ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। নবী
সাল্লাল্লাহু
নিজ চোখে
দেখেছেন যে, এ
ব্যক্তিকে
ছায়া দেয়া
হচ্ছে; রোজা
রাখার কারণে
সে ক্লান্ত
হয়ে পড়েছে।
তখন তিনি এ
কথা বলেছেন।
অর্থাৎ সফরের
মধ্যে নিজেকে
এ পর্যায়ের
কষ্ট দিয়ে রোজা
রাখাতে
সওয়াবের কিছু
নেই। যেহেতু
আল্লাহ তাআলা
রোজা না-রাখার
সুযোগ রেখেছেন।
সমাপ্ত।
তিন:
এ
হাদিসটিকে এর
সাধারণ অর্থ
(যে কোন
প্রকারের
সফরে রোজা
রাখা সওয়াবের
কাজ নয়) এ
অর্থে
গ্রহণ করা
যাচ্ছে না।
কারণ নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম থেকে
সাব্যস্ত আছে
যে, তিনি সফরে
রোজা রাখতেন।
এ কারণে
খাত্তাবী
বলেছেন:
এ
বক্তব্যটি
এসেছে বিশেষ
একটি
প্রেক্ষাপটকে
কেন্দ্র করে।
এ উক্তিটির
বিধান সংশ্লিষ্ট সাহাবীর মত যাদের
অবস্থা তাদের
মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকবে।
যেন নবী
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া
সাল্লাম
বলছেন,
মুসাফিরের
জন্য সফর
অবস্থায় রোজা
রাখা সওয়াবের
কাজ নয়; যদি সফরে
রোজা রাখার
কারণে
রোজাদারের অবস্থা এ ব্যক্তির
মত হয়। এর সপক্ষে
দলিল হচ্ছে-
নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম মক্কা
বিজয়ের বছর নিজে সফর
অবস্থায়
রোজা
রেখেছেন।[আউনুল
মাবুদ থেকে
সংকলিত]
আল্লাহই
ভাল জানেন।
